কম বাজেটে সেরা ফোন!


Walton RX7 mini 

ওয়ালটন আরএক্স সেভেন মিনি

বর্তমানে বাংলাদেশে কম বাজেটে ভালো মানের ফোনের প্রসঙ্গ আসলেই দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের কথা চলে আসে৷ অল্প টাকায় গেমিং ফোনের বাজারের কথা বিবেচনা করলে ওয়ালটন এদিক থেকে অন্যান্য নামীদামী ব্যান্ড থেকে এগিয়ে। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ওয়ালটনের প্রিমো আরএক্স সেভেন মিনি এর সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে।

যেহেতু কম বাজেট নিয়ে কথা বলা শুরু করেছি সেহেতু প্রথমেই ফোনটির দাম বলা উচিত। Walton primo rx7 mini ফোনটির বর্তমান বাজারমূল্য ৯,৪৯৯/- মাত্র।

এটাতে সফটওয়্যার হিসেবে আছে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ৯ পাই। যদিও বর্তমানে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ১০ চলছে তবে সামনের আপডেটে ওয়ালটনের এন্ড্রয়েড ১০ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে বড় স্ক্রীণের ফোনের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। সেক্ষেত্রে ওয়ালটনের এই মডেলটিতে রয়েছে ৫.৯ ইঞ্চি আই পি এস ক্যাপাটিভ টাচস্ক্রীণ এবং ফোনের বডির ৭৫.৩ শতাংশ জুড়ে এই স্ক্রীণ রয়েছে।

এটাতে আপনি ২৫৬ জিবি পর্যন্ত মেমোরি এড করতে পারবেন৷ এতে RAM আছে ৩ জিবি এবং রম ৩২ জিবি। ৩ জিবি RAM দিয়ে আপনি পাবজি, ফ্রি ফায়ার, ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যান্স খুব সহজেই খেলতে পারবেন৷

ফোনের মূল হলো প্রসেসর৷ মূলত ফোন কেনার সময় ক্রেতারা প্রসেসর দেখেই ফোন কিনেন। ওয়ালটনের এই মডেলটিতে প্রসেসর হিসেবে অক্টাকোর প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। চিপসেট হিসেবে আছে মিডিয়াটেক হেলিও পি৬০। যেটা গেমিং চিপসেট হিসেবে বহুল প্রচলিত। সিপিইউ রয়েছে অক্টাকোর ১.৮ গিগাহার্জ।

যারা ছবি তুলতে বেশ পছন্দ করেন তারা ফোন কিনতে গেলে অবশ্যই ক্যামেরা ফিচারের দিকে নজর রাখেন৷ এই ফোনের পেছনে ডুয়াল ক্যামেরা ১৩ এমপি এবং ৫ এমপি, সামনে ৮ এমপি এর ক্যামেরা রয়েছে৷ এলইডি ফ্ল্যাশ, এইচডিআর এবং প্যানারোমা মুডে ছবি তুলতে পারবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে 4G ইন্টারনেট রয়েছে। এবং আপনার একটি 4G সিম থাকলে আপনি এই ফোন দিয়ে খুব সহজেই ইন্টারনেট চালাতে পারবেন৷ ইন্টারনেটের সুবিধা ছাড়াও অন্য সুবিধাগুলোর মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে। এই বাজেটে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ওয়ালটনের এই মডেলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। এছাড়াও ফেসলক ফিচার, কম্পাস, একলেরেমিটার(ত্বরণ নির্ণায়ক সেন্সর) রয়েছে, যা সাধারণত এই দামের অন্যান্য ব্রান্ডগুলোর ফোনে পাওয়া যায় না।

সবশেষে আসি ব্যাটারি নিয়ে। ব্যাটারির কার্যক্ষমতা দিনদিন খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটাতে আছে নন-রিমুভেবল ৩০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। যা আপনি সি টাইপ চার্জার দিয়ে খুব সহজেই চার্জ দিতে পারবেন।

RX7 Mini


আরো সুবিধাগুলো জানার জন্য নিচে স্পেসিফিকেশন দিয়ে দেয়া হলো।

Walton Primo RX7 Mini - Specification

Software: OS Android 9 (Pie)
Screen: 5.9" IPS INCELL capacitive touchscreen, 16M colors, 89.8 cm2 (~75.3% screen-to-body ratio)
Resolution: 1080 x 2340 pixels,19:9 ratio (~395 ppi density)
Dimension: 149.5 x 72.8 x 8.1 mm
Weight: 161 gm
Memory: expandable 256 GB
RAM: 3 GB
ROM: 32 GB
Processor: octa core
SoC: Mediatek MT6762 Helio A22 (12 nm)
CPU: Octa-core 1.8 GHz
GPU: Mali - G72
Camera feature: LED flash, HDR, panorama HDR Video 1080p@30fps primary.
Dual: 13 MP, f/2.0
PDAF 5 MP, f/2.0
secondary: 8 MP, f/2.0, PDAF
Battery capacity: 3000mAh Li-Polymer (non-removable)
Connectivity: internet 2G/3G/4G/LTE, Wi-Fi- Wi-Fi 802.11 b/g/n, WiFi Direct, hotspot
USB: microUSB Type-C
bluetooth: 4.2, A2DP, LE
sensors: Fingerprint (rear-mounted), Face ID, accelerometer, gyro, proximity, compass

অনেকগুলো সুবিধার পাশাপাশি ফোনটির ব্যবহারকারীরা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। সাধারণত প্রতিটি প্রযুক্তিপণ্যের ক্ষেত্রেই এমনটা হয়ে থাকে। ভালো এবং খারাপ উভয়ই থাকবে। একইসাথে সবগুলো ভালো হবে না এটাই স্বাভাবিক।

RX7 mini ফোনটির ডিসপ্লে ৫.৯ ইঞ্চি যেটা বর্তমান বাজারের অন্যান্য ফোনগুলোর তুলনায় কম৷ তবে ওয়ালটনের পরবর্তী মডেলের primo N4 এ রয়েছে ৬.৫" এর বিশাল ডিসপ্লে। প্রসেসর নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। বর্তমানে বাজারের সেরা প্রসেসর হিসেবে কোয়ালকম এর স্নাপড্রাগনের কথা বলতেই হয়৷ সেটার তুলনায় মিডিয়াটেক প্রসেসর কিছুটা নিম্নমানের এবং দামের দিক দিয়েও স্নাপড্রাগনের চেয়ে কম৷ সেজন্য কমদামী ফোনগুলোতে মিডিয়াটেক প্রসেসর বেশি ব্যবহার করা হয়৷ এদিক থেকে ফোনটা পিছিয়ে থাকবে।

ব্যাটারির দিক দিয়েও ফোনটির কিছুটা গ্রহনযোগ্যতা হারিয়েছে৷ বর্তমানে ৪৫০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি এর চাহিদা অনেক। দামী ফোনগুলোর ব্যাটারি ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার বা তার বেশি হয়ে থাকে। সেখানে এই ২০২০ সালে এসে ৩০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকবে৷ তবে এই বাজেটে এর চেয়ে ভালো চাওয়াটাও ঠিক নয়।

ওয়ালটন প্রথমে এই ফোনটা বের করার পর ব্যবহারকারীরা কিছু সমস্যার কথা বলে। যেমন স্ক্রীণ কাঁপা-কাঁপি করা এবং গেমস খেলার সময় ল্যাগ হওয়া, Ram ম্যানেজমেন্ট এর সমস্যা, ব্যাটারি ব্যাকআপ কম, ঘোস্ট টাচ প্রবলেম। এরপর ওয়ালটন এই ফোনের ভার্সন ২ বের করে যেটাতে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা হয়। তবে ভার্সন ২ তে Ram ম্যানেজমেন্ট সমস্যার উন্নতি হয়নি। সম্প্রতি ওয়ালটন v16 আপডেটে এই সমস্যার সমাধান করেছে। এতে ফোনটির ব্যবহারকারীরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

ফোনটির ৩০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি রয়েছে এবং ১ বছরের ওয়ারেন্টি। কম বাজেটে যদি বাজারের সেরা ফোনগুলোর তালিকা করা হয় তবে ওয়ালটনের এই মডেলটি অবশ্যই থাকবে। আপনার বাজেট যদি ১০০০০ এর কম হয়ে থাকে তবে Walton primo rx7 mini ফোনটি আপনার জন্যই। হ্যাপি গেমিং।


Comments

Popular posts from this blog

PREDESTINATION(2014)

আকাশ পার হয়ে গেল